জরিমানা_অনাদায়ে_কারাদণ্ড (ধারা ৬৪ ও ৬৫)- Penal Code 1860

 #দণ্ডবিধি (Penal Code) অনুযায়ী আদালত যখন কোনো ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড বা জরিমানা করেন এবং সেই ব্যক্তি তা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন, তখন তার জন্য অতিরিক্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। মূলত ধারা ৬৪ থেকে ৭০ পর্যন্ত এই বিষয়টি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।




​সহজভাবে বোঝার জন্য নিচে প্রধান ধারাগুলো উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো:


🔷​১. #জরিমানা_অনাদায়ে_কারাদণ্ড (ধারা ৬৪ ও ৬৫)


​যখন আদালত কাউকে অর্থদণ্ড দেন, তখন সেই রায়ে এটিও উল্লেখ থাকে যে জরিমানা না দিলে তাকে অতিরিক্ত কতদিন জেল খাটতে হবে।


🔻​#ধারা_৬৪: আদালত জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। এই কারাদণ্ড মূল সাজার অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হয়।


🔻​#ধারা_৬৫ (সীমা): যদি অপরাধের সাজা জেল ও জরিমানা উভয়ই হয়, তবে জরিমানা না দেওয়ার কারণে আদালত সর্বোচ্চ ওই অপরাধের জন্য নির্ধারিত মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ (১/৪) পর্যন্ত কারাদণ্ড দিতে পারেন।


▫️​উদাহরণ: মনে করুন, একটি অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ২ বছর জেল। আদালত আপনাকে ১ বছর জেল ও ১০,০০০ টাকা জরিমানা করলেন। আপনি জরিমানা না দিলে আদালত আপনাকে অতিরিক্ত আরও সর্বোচ্চ ৬ মাস (২ বছরের ১/৪ অংশ) জেল দিতে পারেন।


🔷​২. #অপরাধের_সাজা_শুধুমাত্র_জরিমানা_হলে (ধারা ৬৭)


👉​কিছু ছোটখাটো অপরাধ আছে যেগুলোর সাজা শুধু জরিমানা, জেল নয়। সেক্ষেত্রে জরিমানা না দিলে কারাদণ্ডের মেয়াদ নিচের ছক অনুযায়ী নির্ধারিত হয়:

জরিমানার পরিমাণ


অনাদায়ে সর্বোচ্চ কারাদণ্ড


🔹৫০ টাকার কম বা সমান হলে ২ মাস পর্যন্ত


🔹৫০ টাকার বেশি কিন্তু ১০০ টাকার কম হলে ৪ মাস পর্যন্ত


🔹১০০ টাকার বেশি যেকোনো পরিমাণ হলে ৬ মাস পর্যন্ত


​সাজার ধরন: এই ক্ষেত্রে কারাদণ্ড অবশ্যই বিনাশ্রম (Simple Imprisonment) হবে।


🔷​৩. জরিমানা আংশিক পরিশোধ করলে সাজা কমে কি না? (ধারা ৬৮ ও ৬৯)


​এই ধারাগুলো সাজা মওকুফ সংক্রান্ত।


🔻​ধারা ৬৮: #জরিমানা_পরিশোধ_করে_দিলে_বা_আইনত_আদায়_হয়ে_গেলে_কারাদণ্ড_তৎক্ষণাৎ_শেষ_হবে।


🔻​#ধারা_৬৯: যদি কারাদণ্ড চলাকালীন জরিমানার কিছু অংশ পরিশোধ করা হয়, তবে সাজার মেয়াদও সেই আনুপাতিক হারে কমে আসবে।


🔴​উদাহরণ: একজনকে ১০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৪ মাসের জেল দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি ১ মাস জেল খাটার পর (২৫% সাজা শেষ) ৭৫ টাকা জমা দেন, তবে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে কারণ বকেয়া টাকার অনুপাতে তার সাজা শেষ হয়ে গেছে।


🔷​৪. #জরিমানা_আদায়ের_সময়সীমা_ও_দায়বদ্ধতা (ধারা ৭০)


​অনেকের ধারণা জেল খাটলেই জরিমানা মাফ হয়ে যায়, কিন্তু আইন তা বলে না।


🔴​সময়সীমা: দণ্ডাদেশ দেওয়ার পর ৬ বছরের মধ্যে যেকোনো সময় সরকার অপরাধীর সম্পত্তি ক্রোক করে জরিমানা আদায় করতে পারে। যদি কারাদণ্ডের মেয়াদ ৬ বছরের বেশি হয়, তবে কারাদণ্ড চলাকালীন যেকোনো সময় তা আদায় করা যাবে।


🔴​মৃত্যু হলেও দায়মুক্তি নেই: দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জরিমানা না দিয়ে মারা গেলেও তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে সরকার সেই টাকা আদায় করার আইনি অধিকার রাখে।


⚛️​সংক্ষেপে মনে রাখার বিষয়:


🔻​অতিরিক্ত সাজা: জরিমানার বদলে যে জেল খাটতে হয়, তা মূল সাজার সাথে যোগ হয় (Consecutive)।


🔻​বিনাশ্রম বনাম সশ্রম: অপরাধের ধরন অনুযায়ী জরিমানার জেল সশ্রম বা বিনাশ্রম হতে পারে (ধারা ৬৬), কিন্তু যে অপরাধের সাজা শুধু জরিমানা, তার জন্য জেল সবসময় বিনাশ্রম হবে।

0 মন্তব্যসমূহ

Thanks

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন